বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় খালিশপুর থানা আওতাধীন ১০নং ওয়ার্ড কৃষক দলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ১০ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনায় যোগদানের পাঁচ দিনের মাথায় মাদকে জড়িত থাকার অভিযোগ এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটির সাজেকে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে পড়ে রিংকি নামের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। মুহসিন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র নেতাদের উদ্যোগে সাবেক যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানার সুস্থতা কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত খালিশপুরে দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রাঘাতে মারাতœক জখম যুবদল নেতাকে ঢাকায় প্রেরণ বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন বিএনপি’র ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য হলেন খানজাহান আলী থানা যুবদল নেতা রবিউল খালিশপুর থানা কৃষকদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মোঃমামুন হোসেন
Headline
Wellcome to our website...
খুলনায় ডিম বাজারে সিন্ডিকেটের কালো হাত #১১ প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি ডিম ব্যবসায়ীরা #হুমকির মুখে খুলনার পোল্ট্রি খামারিরা
/ ৬৩০ Time View
Update : রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪, ৩:২৯ অপরাহ্ন

১১ প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি ডিম ব্যবসায়ীরা,
হুমকির মুখে খুলনার পোল্ট্রি খামারিরা।

খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনায় গত ৫ মাস পূর্বেও প্রতি পিস পোল্ট্রি ডিমের খুচরা মূল্য ছিল ৮ থেকে ৯ টাকা। মাত্র ক’ মাসের ব্যবধানে সেই ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকা থেকে ১৪ টাকা। পাইকারি ১১ টাকা ৫০ পয়সা ও খুচরা ১২ টাকা মূল্যে বিক্রি করার কথা থাকলেও বেশিরভাগ খুচরা দোকানগুলোতে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়। ক্রেতারা বলছেন, সিন্ডিকেটের কালো হাত পড়ায় দফায় দফায় বাড়ছে ডিমের দাম। খুলানয় পর্যাপ্ত পরিমাণ উৎপাদন হলেও বর্তমানে লাগামহীন ডিমের দাম। ডিমের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়ছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। ডিমের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে পাইকারি বিক্রেতাদের দায়ী করছেন খুচরা বিক্রেতারা। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, যোগান কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃহৎ ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি খুলনাসহ অন্যান্য জেলার প্রান্তিক খামারিরা।
ডিমের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে কিছু ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রচন্ড গরমের কারণে ডিম নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। তাছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া রিমাল ঝড়ের কারণে দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছাসহ উপকূলের বেশ কয়েকটি অঞ্চল লন্ডভন্ড হয়েছে। এসব অঞ্চলের অধিকাংশ খামারী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে। যাদের খামারে মুরগি রয়েছে তারা বর্তমানে লাভবান হচ্ছেন বলে জানান তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনায় প্রতিদিন ডিমের চাহিদা রয়েছে চার লাখ। প্রায় ২ লাখ ডিম স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হলেও বাকিটা আসে ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে। উৎপাদনের প্রায় দ্বিগুণ চাহিদা থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল গুলোতে ডিম পাঠায় কিছু নামিদামি প্রতিষ্ঠান।
জানা যায়, এসকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রধানত ১১টি প্রতিষ্ঠান ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, ডায়মন্ড সিক্স লিমিটেড, সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড, সাগুনা পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারি, প্যারাগন গ্রুপ, কাজী ফার্মস লিমিটেড, নারিশ পোল্ট্রি, আকিজ গ্রুপ, আফিল এগ্রো, আমান ফিড, আল মদিনা ও আস্থা পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারি। এলিভেন মাফিয়াখ্যাত এই ১১টি প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে ডিমের বাজারমূল্য।
সূত্র জানায়, সারাদেশে প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ তথা দুই কোটি ডিমের যোগান দেয় এই ১১টি প্রতিষ্ঠান। ফলে ডিমের দাম ওঠা নামার হার নির্ভর করে শীর্ষস্থানীয় এ প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে খুলনা জেলার ছোটখাটো ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও স্বল্প পুঁজির খামারীগণ।
১১ মাফিয়া খ্যাত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর সম্পূর্ণ নির্ভর হতে হয় সাধারণ পাইকারী ব্যবসায়ীদের। সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলো দফায় দফায় বাড়িয়ে দিচ্ছে ডিমের দাম। ভোক্তা পর্যায়ে বিপুল চাহিদা থাকায় সমাধান দিতে পারছেন না সরকারি দপ্তরগুলো। তবে সরকার খাবারের দাম কমানোর ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিলে খামারিরা স্থানীয় পর্যায়ে শতভাগ ডিম সরবরাহ করতে পারবে বলে মনে করেন খুলনা পোল্ট্রি ফিশ ফিড মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, এই ১১টি প্রতিষ্ঠান শীর্ষ স্থানে থাকায় তাদের নিকট খামারির চেয়ে ১ টাকা কম মূল্যে পাওয়া যায়। ফলে পুরো মার্কেট দখল করে আছে তারা। এছাড়া ঋণসহ সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা এ সকল বড় বড় প্রতিষ্ঠানরাই পায়। ফলে একচেটিয়া ভাবে বাজার দখল করে আছে তারা। স্থানীয়ভাবে ডিম শতভাগ সরবরাহ করতে পারলে কিছুটা ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে সরকারিভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাঝারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে অস্থিরতা কাটবে ডিমের বাজারে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, কাঁচা বাজার, মাছ বাজার, মুরগি ও গরুর মাংসের বাজারের মতো একটি ডিমের বাজার থাকলে এই সংকট কাটবে। এক স্থানে সকল ব্যবসায়ী ও খামারীরা বেচাকেনা করলে নিয়ন্ত্রণে আসবে ডিমের দাম। খুলনা নগরীর খালিশপুর চিত্রারী বাজারের ডিম বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। ডিমের দাম বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো এক হাত থেকে আরেক হাত বদল।
খুলনা নিউ মার্কেটের তারেক এন্টারপ্রাইজের মোনাদ বলেন, বর্তমানে মাছ ও মাংসের দাম অনেক বেশি। ফলে ডিমের প্রতি ক্রেতাদের ঝোক বেশি। হঠাৎ ডিমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পোল্ট্রির খাবারের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পোল্ট্রি ব্যবসায় হিমশিম খাচ্ছে খুলনার স্থানীয় খামারীরা।
খামারিরা জানান, একদিনের বাচ্চা থেকে প্রাপ্ত বয়স পর্যন্ত একটা মুরগিতে ৮৫০ টাকা খরচ হয়। মুরগির উপযোগী একটি ঘর তৈরি করতে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া একটি মুরগি ডিম পাড়ার উপযোগী হতে সময় লাগে সাড়ে চার মাস। এছাড়া খাবারের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
খামারিরা বলছেন, ডিম উৎপাদনে ৭০ শতাংশ খরচ হয়

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page