
# কোপানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল #
# প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুলনার খালিশপুর ১১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক আহবায়ক মাসুদ হোসেন (৫০) গুরুতর জখম হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা খালিশপুর মার্কেট বাজার রোডে তাকে কুপিয়ে জখম করে। তিনি খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মৃতঃ আব্দুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় খালিশপুর থানা শ্রমিকদলের সভা নিউজপ্রিন্ট মিল গেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় যোগ দেন যুবদল নেতা মাসুদ। সভা শেষে তিনি মোটরসাইকেল যোগে কোরবান আলী নামক এক যুবককে নিয়ে লাল হাসপাতাল মোড়স্থ নিজ বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তিনি রাত সাড়ে ৯টার দিকে খালিশপুর নিউ মার্কেট ভিতরে গিয়ে থেমে যান। এ সময় তিনি মটরসাইকেলের পাশে কোরবানকে দাঁড়িয়ে রেখে কসাইখানার দিকে যান। হঠাৎ কোরবান দেখতে পায় দু’জন মুখোশধারী তাকে লাঠি দিয়ে মারতে উদ্যত হয়। এ সময় কোরবান সরে দাঁড়াতে গিয়ে পাশে পড়ে যান। তখন দুর্বৃত্তরা মটরসাইকেলটি লাথি মেরে ফেলে দেয়। তারা চলে গেলে কোরবান উঠে দেখেন পাশে অনেক লোক। তিনি গিয়ে দেখেন যুবদল নেতা মাসুদ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এ সময় সবাই তাকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে কেন তিনি ওইখানে এলেন তা কোরবান বলতে পারেননি। এ সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী তাকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুমেক হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় বলে খালিশপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস জানান। তবে নৃসংশভাবে কোপানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। খবর পেয়ে মহানগর যুবদলের আহবায়ক আঃ আজিজ সুমন ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রুবেল খুমেক হাসপাতালে ছুটে যান এবং মাসুদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খালিশপুর নিউ মার্কেট রোডে দুর্বৃত্তদের হামলায় মাসুদ নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। মাসুদকে খুমেক হাসপাতাল থেকে প্রথম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে পঙ্গুতে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এদিকে এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও মাদক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এ হামলা হতে পারে বলে কেউ মনে করছে। উল্লেখ্য, নগরীর খালিশপুরে সাবু নামের এক দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীদের ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। এমন কি সে বাজার কমিটির সাবেক নেতা উজ্জলকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে এ নেক্কারজনক কাজ করায় ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাকে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশে দিয়েছে। ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর এ ঘটনা ঘটেছে খালিশপুর নিউ মার্কেটে। এতে করে ব্যবসায়ীরা চরম আতংকিত হয়ে পড়ে। ওই মার্কেট কমিটির সাবেক সভাপতি উজ্জল বুধবার ১১টার দিকে মাংসপট্টিতে বসে কথা বলছিল। এক পর্যায়ে আ’লীগ নেতা সালেহ আহমেদের ছেলে সাবু ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। উজ্জলকে ধরতে না পারায় সে আরেক মুদি ব্যবসায়ী আবুল কালাম কাজলের দোকানে চড়াও হয়। তাকেও ধারালো অস্ত্র উচু করে ভয়ভীতি দেখায়। তার কর্মকান্ড দেখে খুবই ভীত সন্ত্রাস্ত হয়ে পড়ে। পরে বিএনপির নেতারা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে ধরে বৃহস্পতিবার ডিবি পুলিশে দেয় বলে জানান ১১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। ” তবে একটি সূত্র জানায়, ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাজারে মহড়া দেয়া যুবক সাবু আহত যুবদল নেতা মাসুদের লোক। এছাড়া বাজার কমিটির নেতা উজ্জলের লোক হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী নজরুল-মন্ডল। বাজারের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে নজরুল-মন্ডল বাহিনীকে ব্যবহার করে মাসুদকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। এই নজরুলের সাথে ১১নং ওয়ার্ড বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একটি অংশের ভাল যোগাযোগ রয়েছে। তারা ওয়ার্ডে একক আধিপত্য ধরে রাখতে বিএনপির অপর গ্রুপের যুব নেতা মাসুদকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে এ পরিকল্পনা হাতে নেয় বলে কেউ কেউ মনে করছেন। অন্য একটি সূত্র জানায়, আ’লীগ আমলে নাদিম হত্যা হয়। ওই নজরুল একাধিবার মাসুদকে মারার জন্য ধাওয়া করে। তারই ধারাবাহিকতার জের ধরে গত বছর ৬ আগস্ট টিএন্ডটি গেটে নজরুলকে দেখতে পায় মাসুদ। এ সময় তারা নজরুলকে ধাওয়া করে। তাকে মাসুদ গংরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। যাতে নজরুল আহত হয়। একই সাথে যৌথ বাহিনী নজরুলকে ধরার জন্য একাধিকবার অভিযান চালালে সে দীর্ঘ দিন এলাকা ছাড়া। এই নজরুল বাহিনীর হামলায় শিকার হয়ে বিগত দিনে পঙ্গু হয়েছে সবুজ ও নজর। প্লাটিনাম মিল কলোনীর মধ্যে খুন হয় বাপ্পী নামের একজন স্কুল ছাত্র। তাকেও এরা কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় নজরুলের যাবজ্জীবন সাজা হয়। পরে সে আপিলে বের হয়ে আসে। এদিকে মাসুদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে খালিশপুরে মহানগর যুবদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি নিউজপ্রিন্ট থেকে বের হয়ে পিপলস গোল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেন মহানগর বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, মহানগর যুবদলের আহবায়ক আঃ আজিজ সুমন ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রুবেল, সাবেক কাউন্সিলর ফারুখ হিল্টন, জাহিদ হোসেন, খায়রুজ্জামান শামীম, ছাত্রদল নেতা আবুসালেহ শিমুল প্রমূখ।

