

এখনো ঝুঁকিমুক্ত নন খালেদা জিয়া – ছবি: সংগৃহীত।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃহাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খানিকটা উন্নতি হয়েছে। তবে অপারেশন-পরবর্তী ঝুঁকি থেকে এখনো মুক্ত নন তিনি। সে কারণে এখনো চিকিৎসকদের বাইরে অন্য কাউকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে খালেদা জিয়া কেবিনে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার পর্যালোচনা করছেন চিকিৎসকরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওষুধের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এখনো তিনি ভারী খাবার খেতে পারেন না। তরল জাতীয় খাবার দেওয়া হচ্ছে তাকে।
আজ বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। তাকে কেবিনে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা।’
এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, তিনি এমনিতে খাবার কম খান। এখন শুধু তাকে তরল স্যুপ ও জাউ জাতীয় খাবার দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চাইতে উন্নতি কিংবা অবনতি হয়নি। আগের মতোই আছেন তিনি।
বিএনপির একজন চিকিৎসক নেতা বলেন, অপারেশনের পর তার অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে। কিন্তু অপারেশন-পরবর্তী ইনফেকশন হওয়ার একটা ভয় থাকে। যার কারণে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। কেবিনে চিকিৎসকদের বাইরে শুধু তার ব্যক্তিগত স্টাফরা রয়েছেন।
গত ২৩ জুন খালেদা জিয়ার হৃদ্যন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।
গত ২১ জুন মধ্য রাতে খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের দুটি দুর্নীতি মামলায় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দণ্ডিত হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে দিনই তাকে কারাগারে যেতে হয়। টানা দেড় বছর ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ থাকার পর নানা শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ কারাকক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হলে ওই মাসের শেষ দিকে পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে তাকে দুটো শর্তে কারামুক্তি দিয়ে বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। শর্ত দুটো হচ্ছে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং তাকে দেশেই চিকিৎসা নিতে হবে অর্থাৎ বিদেশে যেতে পারবেন না। তখন থেকে প্রতি ৬ মাস পরপর পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়ে যাচ্ছে সরকার। তবে বর্তমানে খালেদা জিয়া বেশ অসুস্থ। গত ২৩ জুন তার হৃদ্যন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিলরোগে ভুগছেন। এদিকে তার দল বিএনপি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে।